মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

উড়ছেন বাঁধন…

প্রকৃত অর্থেই উড়ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে সময় অভিনেত্রীরা বড় আশা করতেই ভয় পান, সে সময়ে তিনি মাতাচ্ছেন বিশে্বর নামকরা ফেস্টিভ্যালগুলোর রেড কার্পেট। সম্প্রতি হাতে পেয়েছেন এশিয়া প্যাসিফিকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটিও। উজ্জ্বল এই সময়টাকে দারুণ উপভোগ করছেন বাঁধন। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি চাই এই সময়টাকে পুরোদমে উপভোগ করতে। অনেকেই হয়তো জানেন না, একটি ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার জন্য শুধুমাত্র আমন্ত্রণ পান নির্মাতা আর কেন্দ্রীয় চরিত্রের শিল্পী। রেহানা মরিয়ম নূর-এ আমি সেই সুযোগ পেয়েছি যেখানে এমার চরিত্রটি নাম ভূমিকায়। এজন্য আমাকে প্রতিটি ফেস্টিভ্যাল তাদের নিজস্ব অর্থায়নে আমাকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশে নারীকেন্দ্রিক সিনেমাই হয় না, সেখানে আমার মতো বয়সের নারীর জন্য আবার কবে এমন আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা কেউ বানাবে আমি তা নিশ্চিত নই। এ সময়ে যেহেতু সুযোগ এসেছে আমার সিনেমা নিয়ে বিশে^র বড় বড় ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার, সেই সুযোগ কেন কাজে লাগাব না?’

শুধু ক্যারিয়ার নয়, জীবন নিয়েও খুশি বাঁধন। অথচ সবাই জানেন, এক জীবনে কত ঝড়ঝঞ্ঝা তিনি পার করেছেন। অল্প বয়সে বিয়ে, নারী নির্যাতন, বিয়েবিচ্ছেদ, সন্তানের অধিকার পেতে আইনি লড়াই, সিঙ্গেল মাদারের সংগ্রাম সবই দেখতে হয়েছে তাকে। কিন্তু বাঁধন জীবনটাকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি বললেন, ‘আসলে যখন পরিস্থিতিগুলো পার করেছি তখন ভীষণ যন্ত্রণা হয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এখন  পেছনের দিকে তাকালে মনে হয়, যা হয়েছে তা আমাকে আজকের বাঁধন হিসেবে তৈরি হতে সাহায্য করেছে। আমি যে জীবন চেয়েছিলাম, সেটি পেলে হয়তো আজ রেহানা করা হতো না। দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ তো দূরের কথা, একটা সিনেমাই হয়তো করা হতো না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমি জীবন দিয়ে শিখেছি, তুমি সৎ ও পরিশ্রমী হলে জীবন তোমাকে তার বহুগুণ ফিরিয়ে দেবে। আমি যাই করেছি সততার সঙ্গে করেছি বলে আজকের এই ফল আমার ভাগ্যে এসেছে।’

অথচ বাঁধন এক সময় সমাজের চোখে একটি ভালো হয়ে উঠতে সংসার, স্বামী, সন্তান নিয়ে সুখী হতে চেয়েছিলেন। কোনো ঘোষণা ছাড়াই হাফ ডজন ধারাবাহিক নাটক থেকে সরে যান। বিষয়টি এখনো তাকে পীড়া দেয়। তিনি বললেন, ‘আমি তখন মন নিয়ে সংসারটা করব বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। চূড়ান্ত অপেশাদার আচরণ করেছিলাম নির্মাতা-প্রযোজকদের সঙ্গে। কিন্তু আমি এখন রিগ্রেট করি কাজটার জন্য। আমি বরাবরই বলি, আমি এবং আমার মেয়ে এই শোবিজের কাছে ঋণী। যখন সবদিকে হেরে গিয়ে আবার অভিনয়ে ফিরলাম, সবাই আমাকে সাদরে গ্রহণ করল। আজ যে মেয়েটিকে নিয়ে ভালো আছি, সেটা এই শোবিজের জন্যই হয়েছে।’

কথায় কথায় বললেন, ‘এই যে গত মাসে আমেরিকার অস্টিনের ইন্ডিমিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিলাম। সেখানে আমাকে সবচেয়ে সহায়তা করেছেন স্ক্রিপ্ট রাইটার ফারিয়া হোসেন। তিনি নিজের বাসায় থাকতে দিয়েছেন, বড় বোনের মতো টেক কেয়ার করেছেন, আমাকে নিজের মতো থাকার স্পেস দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সময়ও দিয়েছেন আমাকে। সেখানকার বাঙালি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচয় করিয়েও দিয়েছেন। ফেস্টিভ্যালের কর্তৃপক্ষ তো অবাক, বাংলাদেশের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে, তাও আবার সব টিকিট সোল্ড আউট! এই উৎসবটি খুবই কোজি। শুধু ফেস্টিভ্যালে আমন্ত্রিতরাই ছবি দেখেন। কিন্তু আমার ছবির শোতে বাইরের এত দর্শক দেখে উৎসব কর্তৃপক্ষ আমাকে যে সম্মান দেখিয়েছি তা ভাষায় বলতে পারব না। ফারিয়া আপাই এই অসাধ্য সাধন করেছেন। অথচ এই ফারিয়া আপারই একটি ধারাবাহিক নাটকের মাঝখান থেকে আমি বিনা নোটিসে সরে গিয়েছিলাম। তার এই উদার মানসিকতা আমি কোনোদিন ভুলব না।’

অস্টিনের ফেস্টিভ্যাল শেষে বাঁধন চলে যান নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ‘মোমা ফেস্টিভ্যালে’। বাঁধন বলেন, ‘এখানকার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। দুটি প্রদর্শনী হয়েছিল। ২৯ এপ্রিল ও ১ মে। অনেক বাংলাদেশি দর্শক ছবিটি দেখেছেন। সবাই আমার অভিনয়, নির্মাণ ও গল্প বলার ধরন নিয়ে আলোচনা করেন। উৎসব শেষে ঈদের সন্ধ্যায় বাংলাদেশে ফিরি। মেয়েটাকে রেখে ঈদ করব ভাবতেই পারিনি।’ একদিন বিশ্রাম নিয়ে বিক্রমপুর নানা বাড়ি চলে যান বাঁধন। সেখানে পদ্মার পাড়ে মামার অসাধারণ বাগানবাড়িতে মেয়ে ও বাবা-মার সঙ্গে দারুণ সময় কাটে এই নায়িকার। এখন তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্পেনের একটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার। এছাড়া কলকাতার একটি সম্মানজনক অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com